বুধবার, 8 জানুয়ারি 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

স্বপ্নের রক্তচুক্তি

প্রতিবেদক
মোঃ নয়ন মিয়া , সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
বুধবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৫ - ৮:১৫ অপরাহ্ন

জীবন মাঝে মাঝে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে, যেখানে শক্তি আর সাহস ছাড়া বাঁচার আর কোনো পথ খোলা থাকে না। আমি তখন সিলেটে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে পরিবারকে গর্বিত করব। কিন্তু বাবার হঠাৎ অসুস্থতা আমাদের জীবনের সব স্বাভাবিকতা কেড়ে নিল। বাবার চিকিৎসার খরচ, সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় আর আমার পড়াশোনার খরচ—সব একসাথে যেন পাহাড়ের মতো চেপে বসল আমাদের ওপর।

বাবা অসুস্থ হওয়ার পর আমাদের আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়ল যে আমি মেস ভাড়াও দিতে পারছিলাম না। ইন্টারমিডিয়েটের ফাইনাল পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের সময় ঘনিয়ে আসছিল। প্রতিদিন অস্থিরতায় ঘুমাতে পারতাম না। মনে একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খেত—”এই টাকাটা কোথা থেকে আসবে? আমার পড়াশোনা কি এখানেই শেষ হয়ে যাবে?”

কিছু আত্মীয়স্বজনের কাছে হাত পেতেছিলাম। কেউ দুঃখ প্রকাশ করল, কেউ বলল, “আমার পক্ষে সম্ভব না।” কারো মুখে কোনো সান্ত্বনা ছিল না। আশা নিয়ে নিজের আপন মামার কাছে গেলাম। ভেবেছিলাম, বিদেশে থাকেন, নিশ্চয়ই সাহায্য করবেন। কিন্তু তার শর্ত শুনে বুকটা ফেটে গেল। তিনি বললেন, “টাকা দেব, কিন্তু বাড়ির দলিল জমা রাখতে হবে।” কথাটা শুনে আমি হতবাক হয়ে গেলাম। দলিল? আমাদের কী অবস্থা, মামা জানেন না! কিছু বলার মতো ভাষা পেলাম না।

আমার তিনজন মামাই বিদেশে। তবুও কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন না। এদিকে ফর্ম ফিলাপের সময় শেষ হয়ে আসছিল। মনের মধ্যে হতাশার কালো মেঘ জমে উঠছিল। একদিন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো, “যদি রক্ত বিক্রি করি?” চিন্তাটা অসম্ভব শোনালেও তখন সেটাই একমাত্র উপায় মনে হচ্ছিল।

পরদিন সকালে দেরি না করে সোজা চলে গেলাম এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে রক্ত সংগ্রহকারীদের সঙ্গে কথা বললাম। ভয়ে কাঁপা গলায় বললাম, “আমি দুই ব্যাগ রক্ত দিতে পারি, শুধু আমার পড়াশোনার জন্য কিছু টাকা দরকার।” কথাটা বলতে বলতে চোখে পানি এসে যাচ্ছিল। তারা রাজি হলো।

রক্ত দেওয়ার সময় শরীরের ব্যথা সহ্য করছিলাম, কিন্তু মনে চলছিল আরেক ধরনের যুদ্ধ। সুইয়ের ব্যথা ততটা কষ্ট দেয়নি, যতটা আমার স্বপ্নের জন্য ত্যাগের অনুভূতি। রক্তের প্রতিটি ফোঁটা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছিল, আমি আমার ভবিষ্যতের বীজ বপন করছি।

সেদিন ছিল ২০ আগস্ট ২০২৩। রক্ত বিক্রি করে যে টাকা পেলাম, তা দিয়ে ফর্ম ফিলাপের কাজ শেষ করলাম। মেসের বাকি ভাড়াও পরিশোধ করলাম। রক্ত দেওয়ার পর শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, কিন্তু মনে এক অদ্ভুত শান্তি নেমে এসেছিল।

আজ সেই দিনটার কথা মনে হলে চোখে পানি চলে আসে। কিন্তু সেই পানি দুঃখের নয়—গর্বের। সেদিন আমি শুধু রক্ত দিইনি; আমি দিয়েছিলাম আমার স্বপ্ন পূরণের প্রতিজ্ঞা। আমি শিখেছি, কঠিন সময়েই মানুষ নিজের আসল শক্তি খুঁজে পায়।

সেদিনের ত্যাগ আমাকে নতুন করে বাঁচার শিক্ষা দিয়েছে। আমি বুঝেছি, স্বপ্ন পূরণ করতে হলে ত্যাগ করতে হয়। কাউকে পাশে পাওয়া না গেলেও নিজের স্বপ্নের জন্য নিজের লড়াই নিজেকেই করতে হয়। আমার সেই রক্তের প্রতিটি ফোঁটা আজও আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা হয়ে আছে।

লেখক-

মো. নয়ন মিয়া 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ - বিশেষ সংবাদ

আপনার জন্য নির্বাচিত

জুলাই মাসে জুলাই বিপ্লব বিরোধি শিক্ষকদের পদোন্নতি, ক্ষুদ্ধ গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা  

মুরাদনগরে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ-এর প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে শোকরানা দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

রাজশাহীর দুর্গাপুরে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ওএমএস ডিলার নিয়োগ, প্রশংসায়  ইউএনও

পূর্ব শত্রুতার জেরে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে ক্ষেপে উঠেছে এলাকাবাসী

পবিপ্রবিতে এএইচএসএ কর্তৃক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

পরিবার থেকেই পুষ্টি সচেতনতা শুরু হোক: পবিপ্রবি উপাচার্য

তদন্ত কমিশনের বিচার কার্যকাল বিলম্ব হওয়ায় বাকৃবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

১৮ বছরের অপেক্ষা শেষে স্বপ্নপূরণ, আইপিএল শিরোপায় মুখর কোহলির বিজয়ের উল্লাস

গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী স্কাউট সমাবেশ

পাবনা জেলার বৈষম্যবিরোধীর কমিটিতে পাবিপ্রবির ছাত্রলীগের ৮ কর্মী