বৃহস্পতিবার, 6 ফেব্রুয়ারি 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

প্রচলিত আইনব্যবস্থায় বিচারক হ‌ওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান

বুলেটিন বার্তা ডেস্ক:
বুলেটিন বার্তা ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ - ৪:০০ অপরাহ্ন

আল্লাহ তাআলা সূরা মায়েদার ৪৪ নং আয়াতে বলেন,

“যারা আল্লাহর বিধান দিয়ে বিচার করে না, তারা কাফির।”

এক‌ই সূরার ৪৫ নং আয়াতে বলেন,

“যারা আল্লাহর বিধান দিয়ে বিচার করে না, তারা জালিম।”

আবার ৪৭ নং আয়াতে বলেন,

“যারা আল্লাহর বিধান দিয়ে বিচার করে না, তারা ফাসিক।”

এই তিনটি আয়াতের সমন্বয়ের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আলিমগণের মধ্যে দুটি মত পাওয়া যায়-

১. যারা আল্লাহর বিধান ব্যাতীত বিচার ফায়সালা করবে তারা সকলেই কাফির। কারণ, পরবর্তী দুটি আয়াতে মূলত কাফিরদেরকেই জালিম এবং ফাসিক বলে অভিহিত করা হয়েছে। এর দলিল হলো, সূরা বাকারার ২৫৪ নং আয়াত। যেখান বলা হয়েছে –

   “আর কাফিররাই প্রকৃত জালিম।”

এবং সূরা তাওবার ৮৪ নং আয়াত। যেখানে বলা হয়েছে,

“তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফুরী করেছে এবং ফাসিক অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।”

অর্থাৎ, এখানে কাফিরদেরকে ফাসিক বলা হয়েছে।

সুতরাং, এই মত অনুযায়ী যেসকল বিচারক মানুষের তৈরি করা আইন দিয়ে বিচার করবে তারা সকলেই এক‌ইসাথে কাফির, জালিম এবং ফাসিক।

এই মতের পক্ষে ফাত‌ওয়া প্রদান করেছেন সৌদি আরবের প্রখ্যাত শাইখ আলী আল-খুদাইর।

২. দ্বিতীয় মত অনুযায়ী, এই আয়াতত্রয় তিনটি ভিন্ন অবস্থার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহর আইন দিয়ে বিচার না করলে মানুষ কখনো কাফির হয়, কখনো জালিম হয়, আবার অবস্থাভেদে কখনো ফাসিক হয়।

সেসব বিচারক কাফির বলে গণ্য হবে, যারা-

 • আল্লাহর বিধানকে অবজ্ঞা করে;

 • অথবা, অন্য বিধানকে অধিক উপযোগী       মনে করে; 

 • অথবা, অন্য বিধানকে আল্লাহর বিধানের     সমান মনে করে;

 • অথবা, দুইটির মধ্যে একটি হলেই হয়;           এমন মনে করে বিচার-ফায়সালা করে,         তারা কাফির হয়ে ইসলাম থেকে বের হয়ে     যাবে।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান বাদ দিয়ে অন্য  বিধানের মাধ্যমে বিচার-ফায়সালা করে, কিন্তু তার মধ্যে উপরোক্ত বিষয়গুলো পাওয়া যায় না, বরং সে অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রতিশোধ গ্রহণ করার জন্য এরূপ করে থাকে, তাহলে কাফির হবে না বরং জালিম হিসেবে গণ্য হবে।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান ব্যতীত অন্য বিধানের মাধ্যমে বিচার-ফায়সালা করে থাকে কিন্তু তার মধ্যেও পয়েন্টে উল্লিখিত বিষয়গুলো নেই, বরং বিচার প্রার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কিংবা ঘুষ গ্রহণের জন্য কিংবা অন্য কোনো পার্থিব স্বার্থ হাসিলের জন্য এরূপ করে থাকে, তাহলে কাফির হবে না; বরং ফাসিক হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, কাফির ও জালিম হ‌ওয়া ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রেই এরূপ বিচারক ফাসিক বলে গণ্য হবে।

এই মতের পক্ষে ফাত‌ওয়া দিয়েছেন সৌদি আরবের আরেক প্রখ্যাত শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উসাইমীন (রহ.)।

যদি দ্বিতীয় মতটাও বিবেচনা করা হয়, তবুও একজন বিচারক কমপক্ষে ফাসিক (চরম গুনাহগার)। দুইটি মতের মধ্যে ইখতেলাফ হলো বিষয়টি হারাম নাকি কুফরী এটা নিয়ে; হালাল নাকি হারাম তা নিয়ে নয়। হালাল বলার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ জোর করে হালাল বলতে চায়, তাহলে হারামকে হালাল করার কারণে সে মুসলিম মিল্লাত থেকে বের হয়ে যাবে। কারণ, হারামকে হালাল বা হালালকে হারাম বলা ঈমান ভঙ্গের কারণ।

শাইখ আহমাদ শাকির (রহ.) বলেন, ”নিঃসন্দেহে এই নব্য তাতার শাসনব্যবস্থার অধীনে বিচারক হওয়া একেবারেই বাতিল। এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া কোনোক্রমেই বৈধ নয়, সহিহ নয়।” (উমদাতুত তাফসির, ৪/৪৭১) 

শাইখ ড. আব্দুল্লাহ আযযাম (রহ.) জাজ বা বিচারক পদে চাকরির ব্যাপারে বলেন-

“বিচারক: যারা আল্লাহর শরিয়াহ ব্যতীত অন্য আইন কার্যকর করে, তারা ইসলাম থেকে বের না হলেও তাদের এই কাজ, বেতনভাতা সবকিছুই হারাম ও বাতিল। আল্লাহই ভালো জানেন। কারণ, সে একটা হারাম কাজের দায়িত্ব পালন করছে। সে ওই ব্যক্তির মতো, যে কোনো সুদি ব্যাংকে পরিচালকের দায়িত্বে আছে অথবা কোনো মদের বার কিংবা কোনো জুয়ার আসরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছে। তবে শরিয়াতবিরোধী আইনের প্রতি সন্তুষ্ট থাকলে কাফির হয়ে যাবে। কারণ, এমন ব্যক্তি মিল্লাত (মুসলিম জাতিসত্তা) থেকে বের হয়ে যায়, চাই সে যে-ই হোক না কেন।” (আকিদাহর পরিশুদ্ধি, ৭/১৩৯-১৪০)

মুসলিম জনসাধারণের আদালতের দারস্থ হ‌ওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন-

“যারা তাগূতের কাছে মোকদ্দমা ন্যস্ত করে। যদি জনগণ এ ব্যাপারে অধিকার থাকে যে, তারা চাইলে ইসলামি আদালতে বিচার নিয়ে যেতে পারে, আবার চাইলে কুফরি আদালতেও বিচারের ভার ন্যস্ত করতে পারে- এ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি যে ধরনের বিচারব্যবস্থার কাছে মোকদ্দমা দায়ের করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত হবে। যেমন, হালাকু খাঁর সময়কালের জনগণ করেছিল। হালাকু খাঁ দুই প্রকারের বিচারক নিয়োগ দিয়েছিল। সব জায়গায় দুধরনের বিচারালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। একটা ছিল ‘আল-ইয়াসা’ বিচারালয় তাতারদের রচিত। আরেকটি ছিল কুরআনি বিচারালয়। যেসব লোক সে সময়ে আল-ইয়াসার কাছে নিজেদের মোকদ্দমা ন্যস্ত করেছিল, তারা সবাই কাফির হিসেবে গণ্য হবে, মুসলিম মিল্লাত থেকে বেরিয়ে যাবে। ইমাম ইবনু কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘তাহলে ওই ব্যক্তি কেন কাফির হবে না, যে আল-ইয়াসার কাছে ফায়সালার ভার ন্যস্ত করে এবং শরিয়াহর ওপর একে প্রাধান্য দেয়? মুসলিমদের ঐকমত্যে সে কাফির।

কিন্তু বর্তমান সময়ে তাগূতি আইন মানুষের ওপর বাধ্যতামূলকভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্বে এর ব্যাপক প্রয়োগ হচ্ছে। মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাগুতি বিচারব্যবস্থার কাছে ন্যস্ত করছে বিচারিক ভার। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ একান্ত অপারগ বলে গণ্য হবে। এদের অপারগতার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। উত্তম হচ্ছে মুসলিমরা তাদের হক আদায় করা থেকে বিরত থাকবে, যেন তাগূত ও কাফিরগোষ্ঠীর কাছে কোনো বিচারের ভার ন্যস্ত করতে না হয়। সাইয়িদ আবুল আলা মওদূদী ও উস্তাজ হাসান আল বান্নার ঝোঁকও এ দিকেই ছিল।” (আকিদাহর পরিশুদ্ধি, ৭/১৪০-১৪১)

লেখক:

মাসুদ রানা

শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন 

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

সর্বশেষ - বিশেষ সংবাদ