শনিবার, 29 মার্চ 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

ইসরায়েলের আসল উদ্দেশ্য কি জিম্মি উদ্ধার নাকি হামাস নির্মূলের নামে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালিয়ে ফিলিস্তিন দখল?

মোঃ নাসরুল্লাহ সাকিব, রামপুরা (ঢাকা) প্রতিনিধি
মোঃ নাসরুল্লাহ সাকিব, রামপুরা (ঢাকা) প্রতিনিধি
শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫ - ১:৩৬ অপরাহ্ন

ফিলিস্তিন, বিশেষ করে গাজা, দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের নির্মম হামলার শিকার হয়ে আসছে। দখলদার ইসরায়েল একের পর এক সামরিক অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ নিরপরাধ মানুষ ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের শিকার হচ্ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসরায়েলের এই হামলাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

পাঁচ বছরে গাজার ভয়াবহ পরিবর্তন, একসময়ের জনবহুল শহর পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। ছবি- বিবিসি

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর গাজায় যুদ্ধবিরতি আনতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেছে অনেকগুলো পক্ষ। ১৫ মাসের গণহত্যা শেষে এবছরের ১৫ জানুয়ারি শেষপর্যন্ত একটি চুক্তিতে রাজি হয় ইসরায়েল।

আপনজনের নিথর দেহ বুকে নিয়ে হৃদয়বিদারক আর্তনাদ। ছবি: মিডেল ইস্ট আই

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় আবারও নৃশংস হামলা শুরু করেছে, যা এখনো চলছে। এ পর্যন্ত ৭০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৪০০ নারী ও শিশু। ২৩ মার্চ ভোরে গাজার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হন। ইসরায়েল দাবি করছে, হামাসের কবল থেকে জিম্মি উদ্ধারের জন্য এই হামলা চালানো হয়েছে, তবে বাস্তবে নারী, শিশু ও নিরপরাধ মানুষই এর প্রধান শিকার।

সহায়সম্বল নিয়ে অনিশ্চিত পথে ফিলিস্তিনি পরিবার। ছবি: বিবিসি

এরই মধ্যে, ২৪ মার্চ ইসরায়েল পশ্চিম তীরের ১৩টি অবৈধ ইহুদি বসতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি, ২৫ মার্চ গাজার হাজারো বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, বিশেষ করে জাবালিয়া, বেইত লাহিয়া, বেইত হানুন ও শেজাইয়ার অধিবাসীদের। দক্ষিণের খান ইউনিস ও রাফা থেকেও মানুষ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা সংকট আরও ঘনীভূত করছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, এসব এলাকা থেকে তাদের দিকে রকেট হামলা চালানো হয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো, তারা গাজার ভূমি দখলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২৬ মার্চ বিবিসি জানায়, গাজায় প্রথমবারের মতো হামাসবিরোধী বিক্ষোভে শত শত মানুষ হামাসের গাজা ছাড়ার দাবিতে রাস্তায় নামে, যেখানে মাস্ক পরা হামাস যোদ্ধারা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ২৭ মার্চ রইটার্স জানায়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জিম্মিদের মুক্তি না দিলে গাজা আংশিক দখল করা হবে, আর হামাস পাল্টা হুমকিতে জানায়, হামলা বন্ধ না হলে জিম্মিদের মৃতদেহ ফেরত দেওয়া হবে।

গাজায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত বসতবাড়ি। ছবি: আলজাজিরা

যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিন্দার পরও ইসরায়েলের হামলা থামছে না, যা প্রমাণ করে যে তাদের লক্ষ্য শুধু জিম্মি উদ্ধার নয়, বরং গাজায় গণহত্যা চালানো। আন্তর্জাতিক মহল হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও, ইসরায়েল সরকারের নিষ্ঠুর নীতির ফলে প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।

বোমার শব্দে আতঙ্কিত শিশুরা। ছবি: দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলাকালে ৪৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং গাজার অধিকাংশ অবকাঠামো বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ই অক্টোবর পর্যন্ত সংঘাতের এক বছরে শনাক্ত হওয়া মৃতদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ ছিল নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। তবে, জাতিসংঘের নভেম্বরের বিশ্লেষণে নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই একপাক্ষিক ধ্বংসযজ্ঞে এক লাখ ১০ হাজার ৪৫৩ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত ঘরবাড়ি, বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে গাজার মানুষ। ছবি: ফ্রান্স ইনফো

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ৩ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে জানায়, আহতদের মধ্যে ২৫ শতাংশের আঘাত এতোটাই গুরুতর যে, তাদের জীবন আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার ৫৯.৮ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ইসরায়েল শহুরে এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে এবং কিছু অবকাঠামোতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।

জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের (ইউএনওস্যাট) তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শুরুতে গাজার ৬৯ শতাংশ ভবন ও স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে, গাজার রাস্তাঘাটের ৬৮ শতাংশও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে অন্তত ১,০৬০ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন।

গাজার ছয়টি পাবলিক কমিউনিটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং একমাত্র ইনপেশেন্ট সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালও এখন আর চালু নেই বলে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ বিবিসি ভেরিফাইকে জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার সমন্বয় অফিস (OCHA) ধারণা করছে, গাজায় অন্তত ১৯ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা গাজার মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ। এই মানুষদের অনেকেই একাধিকবার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

গাজায় শিশুর কান্না, ধ্বংসস্তূপে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। ছবি: দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট

গাজার ২৩ লাখ মানুষের প্রায় সবাইকে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হয়েছে, কারণ ইসরায়েল টানা আক্রমণ চালিয়েছে এবং বড় আবাসিক এলাকাগুলো দ্রুত খালি করার নির্দেশ জারি করেছিল। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অক্টোবর থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত গাজার উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে বলা হয়, কারণ ইসরায়েল সেখানে বড় আকারে হামলা চালিয়েছে।

তীব্র খাদ্য সংকটে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা। ছবি: আলজাজিরা 

জাতিসংঘের ধারণা অনুযায়ী, ৯১ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। আইপিসি (IPC), যারা সরকার, দাতব্য সংস্থা এবং বিভিন্ন এজেন্সির সাথে কাজ করে, জানিয়েছে যে, উত্তর গাজায় সাম্প্রতিক অভিযানগুলোর পর সেখানে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এই সংকটগুলোর মধ্যে কৃষিজমির ক্ষতিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজার ৬৭.৬ শতাংশ কৃষিজমি গোলাবর্ষণ, যানবাহনের চলাচল ও অন্যান্য সংঘর্ষজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে, শিক্ষাখাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) জানিয়েছে, তারা জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ৪৯টি স্কুল ভবনে হামলা চালিয়েছে।

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের খোঁজ – শেষ চেষ্টা চলছে উদ্ধারের। ছবি: সিএনএন

ডিসেম্বরের শুরু থেকে ১৩টি স্থানে এই ধরনের হামলার যাচাইকৃত ফুটেজ পেয়েছে বিবিসি ভেরিফাই। এই স্থানগুলো তখন আর স্কুল হিসেবে চালু ছিল না, বরং বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল। এ যেন এক সুপরিকল্পিত গণহত্যা, যেখানে প্রতিরোধের সুযোগই ছিল না, ছিল শুধু ধ্বংস আর মৃত্যু।

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র। ছবি: টাইম ম্যাগাজিন 

এছাড়া, ইসরায়েল ফিলিস্তিনের সাংবাদিকদের হত্যা করছে এবং গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, যাতে তাদের অপরাধগুলো বিশ্বের সামনে প্রকাশ না পায়। ইসরায়েলের এই আগ্রাসন শুধু ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি মানবতার বিরুদ্ধে একটি বড় অপরাধ। বিশ্ববাসীর উচিত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়া এবং ইসরায়েলের দখলদার নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বহুবার ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানালেও তারা তাদের আগ্রাসন বন্ধ করেনি।

গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় নারী ও শিশুসহ শত শত নিহত। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েল গাজা স্ট্রিপকে ২০০৭ সাল থেকে কঠোর অবরোধের মধ্যে রেখেছে। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রেখে তারা গাজার জনগণকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অবরোধের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এটি একটি যুদ্ধাপরাধ, কিন্তু পশ্চিমা শক্তিগুলোর সমর্থনে ইসরায়েল অবাধে এই নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনের ভূমিতে ট্যাংক নিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের অবরোধ। ছবি: টাইম ম্যাগাজিন

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বেড়েই চলেছে। তারা অবৈধভাবে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপন করছে। এতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ অবৈধ, কিন্তু ইসরায়েল এসব নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে চলেছে।

ইসরায়েল শুধু ফিলিস্তিনিদের জীবন ও ভূমির ওপর হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপরও আঘাত হানছে। মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ বারবার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে। রমজানের মতো পবিত্র মাসেও ইসরায়েল সেখানে আক্রমণ চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের নামাজ আদায়ে বাধা দিয়েছে।

ইসরায়েলি প্রচারণা ও পশ্চিমা মিডিয়া ডোম অব দ্য রক কে আল-আকসা মসজিদ বলে চালিয়ে দেয়, যাতে আসল আল-আকসা মসজিদকে আক্রমণ করলে মুসলিম বিশ্ব প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেরি করে। ইহুদি উগ্রবাদীরা বিশ্বাস করে, আল-আকসা মসজিদের স্থানে “তৃতীয় ইহুদি মন্দির” নির্মাণ করলে তাদের “মশিহ” (Messiah) আসবে এবং ইহুদিরা বিশ্ব শাসন করবে। তারা মনে করে, এটি বাস্তবায়ন হলে ইসরায়েল শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বরং পুরো বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করবে। এই মতাদর্শের কারণে তারা ধাপে ধাপে আল-আকসা মসজিদের নিচে সুরঙ্গ খনন, মুসলিমদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জেরুজালেমে অবস্থিত ডোম অফ দ্য রক ও আল আকসা মসজিদের চিত্র। ছবি: নুরালদীন

ডোম অব দ্য রক (Qubbat As-Sakhrah) এবং আল-আকসা মসজিদ (Al-Masjid Al-Aqsa) উভয়ই জেরুজালেমের পবিত্র হারাম আল-শরীফ (Temple Mount) এলাকায় অবস্থিত। এগুলো ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম ও ইহুদিধর্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান।

ছবি: জেরুজালেমে অবস্থিত ঐতিহাসিক ডোম অফ দ্য রক।

ডোম অব দ্য রক (Qubbat As-Sakhrah)

ডোম অব দ্য রক হলো একটি ইসলামী স্থাপত্যকীর্তি যা ৬৯১-৬৯২ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান নির্মাণ করেন। এটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান কারণ এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজে গমনের সময় বোরাক নামক বাহনে চড়ে আসমানে গিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এর স্বর্ণালংকৃত গম্বুজ এবং চমৎকার মোজাইক নকশা ইসলামী স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। যদিও এটি মসজিদ নয়, এটি একটি স্মৃতিস্তম্ভ যা ইসলামী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

ছবি: জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল আকসা মসজিদ।

আল-আকসা মসজিদ (Al-Masjid Al-Aqsa)

আল-আকসা মসজিদ হলো ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর পরে)। এটি সেই মসজিদ যেখানে নবী মুহাম্মাদ (সা.) মিরাজের রাতে গিয়েছিলেন এবং এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। এটি ইসলামের প্রথম কিবলা ছিল, পরে কিবলা পরিবর্তন করে কাবাকে নির্ধারণ করা হয়।

ইসরায়েলের অন্যতম লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনের দখল সম্প্রসারণ ও জেরুজালেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ। পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হচ্ছে, যাতে পুরো অঞ্চলটি ইসরায়েলের দখলে চলে আসে। একইসঙ্গে, আল-আকসা মসজিদের ওপর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি ফিলিস্তিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল-আকসা শুধু ফিলিস্তিনিদের নয়, এটি গোটা মুসলিম উম্মাহর সম্পদ, এবং এর রক্ষা করা আমাদের ঈমানের অংশ।

ইসরায়েললি কোম্পানির পন্য। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি পন্য। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি পন্যর বিকল্প পন্য। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিন সংকট শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব দুঃখ প্রকাশের বাইরে গিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। প্রথমত, ফিলিস্তিনের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়। নিয়মিত সালাতে ও তাহাজ্জুদে তাদের জন্য দোয়া করা উচিত। দ্বিতীয়ত, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রচার করতে হবে, যাতে মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে পারে। তৃতীয়ত, ফিলিস্তিনিদের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা পাঠানো জরুরি, যা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে করা যায়। চতুর্থত, ইসরায়েলি পণ্য বর্জন করা মুসলিমদের নৈতিক দায়িত্ব, কারণ এসব কোম্পানি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অর্থায়ন করে। নবী (সা.)-ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রতিরোধ করেছিলেন।সর্বোপরি, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি, কারণ বিভক্তির সুযোগ নিয়েই শত্রুরা মুসলিমদের দুর্বল করছে।

ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

এর আগে ইসরায়েল নামে কোনো দেশ বা রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল না। ইহুদিরা ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করত। পরে উনবিংশ শতাব্দীতে সিওনবাদী আন্দোলন (Zionism) শুরু হলে ইহুদিরা আবার ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন করতে থাকে। ১৯১৭ সালে ব্রিটেন বেলফোর ঘোষণা দেয়, যেখানে ফিলিস্তিনে একটি ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। [তথ্যসূত্র: Declaration (1917)]

পরে, ১৯২০ সালে জাতিপুঞ্জ ফিলিস্তিনকে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট অঞ্চল ঘোষণা করলে ইহুদিদের অভিবাসন আরও বাড়তে থাকে। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের বিভাজন পরিকল্পনা (UN Partition Plan) ফিলিস্তিনকে দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব দেয়—একটি ইহুদিদের জন্য, অন্যটি আরবদের জন্য। তবে এই সিদ্ধান্ত আরবরা মেনে নেয়নি। [তথ্যসূত্র: UN, Resolution 181 (1947) ]

১৯৪৮ সালের ১৪ মে ডেভিড বেন গুরিয়ন ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে পরদিনই আরব দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে (আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ, ১৯৪৮)। যুদ্ধে ইসরায়েল জয়লাভ করে এবং তাদের ভূখণ্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে নেয়, ফলে লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়, যা তাদের জন্য “নাকবা” (বিপর্যয়) হিসেবে পরিচিত। তথ্যসূত্র: [Pappé, Ethnic Cleansing (2006)], [A History of the First Arab-Israeli War (1948)]

এরপর থেকে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ওপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে তারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করেছে এবং সামরিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে হাজারো নিরপরাধ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের (Six-Day War) পর ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ১৯৮৭ ও ২০০০ সালে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দুটি বৃহৎ প্রতিরোধ আন্দোলন (ইন্তিফাদা) গড়ে তোলে, কিন্তু ইসরায়েল কঠোর দমননীতি অবলম্বন করে। তথ্যসূত্র: [Tessler, Israeli-Palestinian Conflict (1994)], [Shlaim, The Iron Wall (2000)]

ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। ছবি: দ্যা ন্যাশনাল নিউজ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও ইসরায়েল ফিলিস্তিনে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে, বিশেষ করে গাজায় বিমান হামলা ও অবরোধের মাধ্যমে হাজারো নিরপরাধ নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। তথ্যসূত্র: Al Jazeera, BBC, Reuters, Amnesty International, Human Rights Watch, Reuters

ইসরায়েল শক্তিশালী হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যা তাদের সামরিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। ইসরায়েলের শক্তির মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের অব্যাহত সমর্থন। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় ভেটো প্রয়োগ করছে। এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও ভারতও ইসরায়েলকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিচ্ছে। ইসরায়েলের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও সেনাবাহিনী (আইডিএফ) তাদের নিরাপত্তা ও দখলদার নীতি বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ১৯৭৯ সালে মিসরের সঙ্গে শান্তিচুক্তি ও ২০২০ সালে “আব্রাহাম অ্যাকর্ডস” স্বাক্ষরের মাধ্যমে তারা আরব দেশগুলোর প্রতিরোধ দুর্বল করেছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আন্তর্জাতিক সমর্থন ও আরব বিশ্বের বিভক্তি ইসরায়েলকে আরও সাহসী করে তুলেছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিন্দার পরও তারা দখলদার নীতি অব্যাহত রেখেছে। ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানো হলেও বিশ্ববাসী কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সোর্স: Al Jazeera’s “Israel-Palestine Conflict”

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র। ছবি: বিবিসি

ইহুদিরা বিশ্বাস করে, সুলাইমান (আ.) যেমন বিশ্ব শাসন করেছিলেন, তেমনই ফিলিস্তিন পুরো ভুমি দখল করে তারা সারা বিশ্ব শাসন করতে পারবে এবং শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে সবাই তাদের অধীন হবে। ফিলিস্তিন দখল তাদের সেই পরিকল্পনার অংশ। তারা মনে করে, এটা করতে পারলে ভবিষ্যতে ভণ্ড মাসিহ (দাজ্জাল) আসবে, আর তখন তারা সারা বিশ্ব শাসন করবে। সেই লক্ষ্যেই তারা এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যসূত্র: Religious Books (Quran, Tanakh, Bible), A History of the Jews, The Ethnic Cleansing of Palestine

তাহলে, নেতানিয়াহু সরকারের আসল উদ্দেশ্য কি জিম্মি উদ্ধার, নাকি হামাস নির্মূলের কথা বলে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালিয়ে পুরো ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করা?

সর্বশেষ - শিক্ষা

আপনার জন্য নির্বাচিত

নড়াইলে চোরাই ব্যাটারি চালিত রিক্সা উদ্ধার  গ্রেফতার ৩

যশোরে গুলিবিদ্ধ হানিফ ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে

বিভাগীয় সাংবাদিকতা: চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে আরপিইউজের সম্মেলন

বয়স্ক ভাতা বঞ্চিত সেকান্দার মৃধার আহাজারি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য তারুণ্য উৎসবের আয়োজন

অবৈধভাবে পরীক্ষা দিতে এসে তোপের মুখে নোবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা

রাজশাহীতে প্রতারণা করে ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ

বাকৃবিতে মাঠ দিবস ও গাজর-টমেটো উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ

শাহীন চাকলাদারকে কারাদণ্ড ও সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণে আদালতের রায়

কুয়েটে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে ইবিতে মশাল মিছিল