সোমবার, 3 ফেব্রুয়ারি 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

বক্তব্য মনঃপুত না হওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে অবরুদ্ধ করল আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা

প্রতিবেদক
আরিফ বিল্লাহ, ইবি প্রতিনিধি
সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ - ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আইন ও আল ফিকহ বিভাগের মারামারির ঘটনায় বক্তব্য মনঃপুত না হওয়ায় নিজেদের বিভাগেরই এক শিক্ষার্থীকে অবরুদ্ধ করেছে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই শিক্ষার্থী বিভাগের সেমিস্টার পরীক্ষার ভাইভা দিতে গেলে তাকে আটকে রাখে অন্য শিক্ষার্থীরা। আটকে রাখা ওই শিক্ষার্থীর নাম রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। সে আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় কুষ্টিয়া থেকে ক্যাম্পাসে আসার সময় সানন্দা বাসের মধ্যে আইন বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমন অভ্র ও আল ফিকহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলামের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ওই বাসটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাস ঘেরাও করে । পরে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রক্টরিয়াল বডি রাত ১০টার দিকে বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রক্টর অফিসে আলোচনায় বসেন। 

আলোচনায় বাসে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। এসময় আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষদর্শী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ঘটনার বর্ণনা দেন। কিন্তু রাশেদের বক্তব্য আইন বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীদের মনঃপুত হয়নি।  ফলে আজ রবিবার ওই শিক্ষার্থী ভাইভা দিতে আসলে তার ওপর অন্যন্যরা ক্ষীপ্ত হয়। ফলে তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় বিভাগীয় সভাপতির অফিসে রাখা হয়।

আটকে রাখার বিষয়ে বিভাগেটির শিক্ষার্থীরা জানান, আজ রাশেদ বিভাগের সেমিস্টারের ভাইভা দিতে আসলে তার সঙ্গে তার সহপাঠীরা (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের) কেউ ভাইভায় বসতে রাজি হয়নি। এছাড়া নিজ বিভাগের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ায় তার ওপর শিক্ষার্থীরা ক্ষীপ্ত হয়। ফলে রাশেদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে বিভাগীয় সভাপতির অফিসে রাখা হয়েছিল। 

এদিকে ওই শিক্ষার্থীকে অবরুদ্ধ করা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী মিজান বলেন, আমরা জানতে পারি, প্রক্টর স্যারের কক্ষে যখন সে বক্তব্য দেয় সেটা মিথ্যা স্টেটমেন্ট ছিলো।

এসময় আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, আমি গতকাল রাতে ওই বাসে অবস্থান করি৷ পরে ঘটনার একপর্যায়ে প্রক্টর স্যারের কক্ষে মিটিং বসে৷ সেসময় আমিও উপস্থিত ছিলাম৷ পরে তারা আমাকে জিগ্যেস করলে আমি জানাই, হাসান ভাই যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সত্য। পরে আজ সকালে আমার ভাইভা থাকায় বিভাগে উপস্থিত হই। এসময় আমার বিভাগের জুনিয়ররা অভিযোগ তুলে, আমি নাকি বিভাগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এসময় তারা আমাকে অবরুদ্ধ করে এবং আমাকে ভাইবা দিতে দিবে না বলে জানান। পরে বিভাগের শিক্ষকরা আমাকে উদ্ধার করেন।

এদিকে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্ণারে সংবাদ সম্মেলন করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সেখানে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কর্তৃক তাকে আটকে রাখার বিষয়ে অস্বীকার করে রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাকে আটকে রাখা হয়নি। আমি অসুস্থ বোধ করছিলাম তাই বিভাগীয় সভাপতির রুমে বসে ছিলাম।

এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি দুই বিভাগের ঘটে যাওয়া ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী (রাশেদ) মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে। ফলে তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আমাদের তত্ত্বাবধানে রেখেছিলাম।

সর্বশেষ - বিশেষ সংবাদ