শুক্রবার, 6 জুন 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

আরাফার ময়দানে মহানবীর ভাষণেই রচিত হয়েছিল মানবাধিকারের প্রথম ঘোষণাপত্র

মোঃ নাসরুল্লাহ সাকিব, রামপুরা (ঢাকা) প্রতিনিধি
মোঃ নাসরুল্লাহ সাকিব, রামপুরা (ঢাকা) প্রতিনিধি
শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫ - ২:৪৬ অপরাহ্ন

আরাফার ময়দানে বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানব ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ যেখানে মানবাধিকারের ধারণা এনলাইটমেন্ট পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় চিন্তাবিদদের কাছ থেকে এসেছে বলে মনে করে, সেখানে সত্যটি হলো—প্রকৃত মানবাধিকারের প্রথম ঘোষণা এসেছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ থেকে, আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে। বিদায় হজে আরাফার প্রান্তরে উচ্চারিত সেই ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন দিকনির্দেশনা।

“হে জনতা! আমার কথাগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনো”—এই বাক্যেই শুরু হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক ভাষণ। নবীজি তখন ইঙ্গিত দেন, এটি হয়তো তাঁর শেষ হজ, এবং তিনি আর কখনো এই জায়গায় উপস্থিত হতে পারবেন না। উপস্থিত লক্ষাধিক সাহাবীর হৃদয়ে গভীর আবেগ সৃষ্টি করে তিনি শুরু করেন এক পরিপূর্ণ ও যুগান্তকারী বক্তব্য।

ভাষণের সূচনাতেই উঠে আসে আল্লাহর একত্ব এবং পরকালের জবাবদিহিতার কথা। নবীজি স্মরণ করিয়ে দেন যে মানুষ একদিন আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে এবং প্রত্যেকের কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে। এই ঘোষণা কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং একজন মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপে নৈতিক জবাবদিহিতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

বিদায় ভাষণে সাম্য ও মানবিক ভ্রাতৃত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। রাসূল (সা.) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, কোনো আরবের ওপর অনারবের, কিংবা শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই—শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ায়। এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে চলমান জাতিগত বৈষম্য, বর্ণবাদ ও শ্রেণিবিভেদের বিরুদ্ধে এক চিরন্তন প্রতিবাদ।

অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে রাসূল (সা.) ঘোষিত করেন জাহেলি যুগের সব সুদ নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, এখন থেকে সব ধরনের সুদ হারাম। পাশাপাশি, সব রক্তের বদলা ও গোত্রভিত্তিক প্রতিশোধের দাবি রহিত করা হয়। এই পদক্ষেপগুলো একটি শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ইসলামের সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ।

তিনি ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ এবং আর্থিক সততার ওপরও আলোকপাত করেন। তাঁর নির্দেশ ছিল: কারো আমানত হলে তা ফেরত দিতে হবে, ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। এমন শিক্ষা আজকের জগতে আর্থিক বিশ্বস্ততা ও সামাজিক আস্থার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

নারীদের মর্যাদা এবং অধিকার নিয়েও ঐতিহাসিক বার্তা দেন রাসূল (সা.)। তিনি বলেন, “স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, কারণ তারা আল্লাহর আমানত।” সেই সময়ে নারীরা যখন সম্পূর্ণ অবহেলিত ও অবমূল্যায়িত, তখন এমন ঘোষণা ছিল নারী মর্যাদার অভাবনীয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

রাসূল (সা.) উত্তরাধিকার বণ্টনেও আল্লাহ নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আল্লাহ প্রত্যেককে তার নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কারো হক নষ্ট করা যাবে না। এই শিক্ষাই সামাজিক ভারসাম্য এবং সম্পদ বণ্টনে ন্যায় প্রতিষ্ঠার অন্যতম স্তম্ভ।

তিনি অধীনস্থদের প্রতিও সদয় আচরণের নির্দেশ দেন। নবীজি বলেন, “তোমরা যা খাবে, তাদেরও তা-ই খাওয়াবে; যা পরবে, তা-ই পরাবে।” এ বক্তব্য শ্রমজীবী জনগণের প্রতি মানবিক আচরণ ও সম্মান নিশ্চিত করার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত।

রাসূল (সা.) মুসলিম উম্মাহর জন্য দুটি চিরন্তন পথনির্দেশনা রেখে যান—কুরআন ও তাঁর সুন্নাহ। তিনি বলেন, “তোমাদের কাছে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না—আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ।” এই ঘোষণা আজও মুসলিম সমাজের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক চালিকাশক্তি।

তিনি দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ করেন এবং সহনশীলতার শিক্ষা দেন। বলেন, অতীতের বহু জাতি দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়েছে। তিনি দ্বীনকে অন্যের ওপর জোর করে চাপিয়ে না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেন।

ভাষণের শেষে তিনি সকল সাহাবিকে নির্দেশ দেন, যেন তাঁরা এই বাণী পুরো মানবজাতির কাছে পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, “উপস্থিত ব্যক্তির দায়িত্ব অনুপস্থিতদের কাছে আমার বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কারণ অনেক অনুপস্থিত ব্যক্তি হয়তো উপস্থিতদের চেয়েও অধিক হেফাজতকারী হবে।” এই আহ্বান আজও মুসলিমদের কাছে দাওয়াত ও ইসলামী জ্ঞানের প্রচারের অন্যতম অনুপ্রেরণা।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, এই ভাষণ শুধুই ধর্মীয় উপদেশ নয়, ছিল এক পূর্ণাঙ্গ মানবিক জীবনব্যবস্থার রূপরেখা। সেখানে উঠে এসেছে মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ন্যায়, ধর্মীয় সহনশীলতা, নারী ও শ্রমজীবীদের অধিকার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দিকনির্দেশনা। আধুনিক পৃথিবী যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি, তার অনেক সমাধান আজ থেকে ১৪০০ বছর আগেই উঠে এসেছিল বিদায় হজের এই ভাষণে।

এ ভাষণ প্রমাণ করে, ইসলাম শুধুমাত্র একটি ধর্ম নয়—এটি এক পরিপূর্ণ মানবিক জীবনব্যবস্থা।

সর্বশেষ - শিক্ষা

আপনার জন্য নির্বাচিত

যুক্তরাজ্য সফরে ইউনূসের কূটনৈতিক জয়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজা উদযাপন

দিরাই পৌর শহরে স্পিড ব্রেকারে সতর্কতা চিহ্ন অঙ্কন: দুর্ঘটনা রোধে প্রশংসনীয় উদ্যোগ

এসপি, ওসির স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরীঃ জালিয়াতি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

কুড়িগ্রামে বিএনপির বিশাল জনসভা: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি

পোরশায় আম চাষীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পবিপ্রবিতে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স সেল চালু

ইবিতে হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

ইবিতে তারুণ্য’র নতুন নেতৃত্বে তুরান-হিমেল

জোহা দিবসকে জাতীয়করণের দাবি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের