শুক্রবার, 20 জুন 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

এল নিনোর ছোবলে হুমকিতে কৃষি

প্রতিবেদক
স্টাফ রিপোর্টার
শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫ - ১:৩৫ পূর্বাহ্ন

প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে যে জলবায়ুগত অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তা এল নিনো নামে পরিচিত। এই বৈশ্বিক আবহাওয়াজনিত প্রক্রিয়া বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থাকে, বিশেষত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) ২০২৩ সালে এল নিনোর উপস্থিতি নিশ্চিত করার পর দেশের অনেক অঞ্চলে, বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোরে, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে ফসল, গবাদিপশু ও মাছের উৎপাদনে চরম ব্যাঘাত ঘটে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩.৯৫ লাখ হেক্টর, কিন্তু চাষ হয় মাত্র ১০.৫৫ লাখ হেক্টরে, যা প্রায় ২৫% কম। আর দীর্ঘ সময় ধরে চলা খরার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকায় ধান, গ্রীষ্মকালীন সবজি, পাট ও মরিচের ফলন গড়ে ২০–৩০% হ্রাস পায়।

পাশাপাশি মৎস্য খাতে জলাশয়ে অক্সিজেন ঘাটতি এবং গবাদিপশুতে তাপজনিত রোগ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়, যার প্রভাব পড়ে বাজারেও। ফসলের ঘাটতি ও সরবরাহ সংকটে চাল, ডাল ও শাকসবজির দাম ১৮–২৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

এমন প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক কৃষকদের করণীয় হিসেবে খরা ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত যেমন ব্রি ধান-৭৮, ব্রি ধান-৯২, ব্রি ধান-৫৩, বারি মাসকালাই-৩ চাষে গুরুত্ব দেওয়া, আগাম ও স্বল্পমেয়াদি ফসলের চাষ, এবং সেচে পানির অপচয় রোধে সৌরচালিত পাম্প ও ড্রিপ ইরিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া খালের পানি সংরক্ষণ, পুকুর পুনঃখনন করে জলাশয়নির্ভর কৃষির বিস্তার, গবাদিপশুর জন্য ছায়াযুক্ত বাসস্থান এবং স্থানীয়ভাবে ঘাস উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

মাছ চাষে ফোয়ারা, অক্সিজেন ইনজেক্টর ও জৈব ফিল্টার প্রযুক্তি ব্যবহার, ডিজিটাল আবহাওয়া বার্তা ও কৃষি পরামর্শের জন্য কৃষি তথ্য সার্ভিসের অ্যাপ বা ১৬১২৩ নম্বরে সংযুক্ত থাকা, এবং স্থানীয় কৃষক বাজারে সরাসরি বিক্রয়ের জন্য ডিজিটাল মার্কেটপ্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একইসঙ্গে জলবায়ু সহনশীল অভিযোজন প্রযুক্তি হিসেবে—

রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং (বৃষ্টির পানি ধরে রাখার প্রযুক্তি),

মালচিং (মাটিতে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পাটকাঠি/খড় ঢেকে রাখা),

রেইজড বেডে সবজি চাষ,

ক্লাইমেট স্মার্ট হাউজ বা ঢালযুক্ত ছাউনিতে শাকসবজি উৎপাদন,

সোলার সেচ প্রযুক্তি,

মোবাইলচালিত স্মার্ট ফিশিং এলার্ট এবং

স্মার্ট কার্ডভিত্তিক কৃষি ইনপুট সহায়তা চালু করা

যেতে পারে কার্যকর উপায়। এসব প্রযুক্তি এল নিনোর মতো জলবায়ু সংকটে কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াবে।

সরকারের উচিত এই প্রযুক্তিগুলো সহজলভ্য করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রদর্শনী প্লট, প্রশিক্ষণ ও ভর্তুকিভিত্তিক প্রণোদনা প্রদান করা। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য বিশেষ জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে কৃষকরা শুধুমাত্র সংকট মোকাবিলাই নয়, বরং উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা ধরে রেখে খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

লেখক:-মো: শাহীন হোসেন

সেক্টর স্পেশালিলস্ট( এগ্রিকালচার),  জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি, ব্র্যাক

সর্বশেষ - শিক্ষা

আপনার জন্য নির্বাচিত

ফুলবাড়ীতে ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখতে জনতার ঢল

তজুমদ্দিনে বিধবাকে ধর্ষণ: গ্রেফতার দুই আওয়ামী কর্মী

ভূরুঙ্গামারীতে ট্রাক-অটোর সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের আনন্দভ্রমণ পরিণত হলো মৃত্যু মিছিলে: নিহত ২, আহত ৩

স্পেনকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার ন্যাশনাল লিগ চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল

মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ৩৯৫ পদে নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন

জয়পুরহাটে মুক্তিপণ আদায়ে গ্রেফতার ৩, টাকা উদ্ধার

পাঁচবিবিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ছেলের মৃত্যু, মা দগ্ধ

বেরোবির এমআইএস বিভাগে সিভি রাইটিং বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রূপগঞ্জে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

২০২৪ সালে বাকৃবি: কৃষি খাতে সাফল্যের নতুন অধ্যায়