শুক্রবার, 2 মে 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

ডিআইইউ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে মে দিবস, মে দিবস কি শুধু স্মৃতির দিন? নাকি অধিকার প্রতিষ্ঠার শপথ?

প্রতিবেদক
Delowar Mahmud
শুক্রবার, ২ মে ২০২৫ - ১০:৪২ অপরাহ্ন

দেলোয়ার মাহমুদ, ডিআইইউ প্রতিনিধিঃ

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চারজন শিক্ষার্থী—কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জোনায়েদ হোসেন রাতুল, ইংরেজি বিভাগের মোছাম্মৎ মজিদা খাতুন ও আবদুল্লাহ আল রাকিব এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো: রায়হান—আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে তাঁদের ভাবনা ও উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কন্ঠে ধ্বনিত হয়েছে শ্রমিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ন্যায্য অধিকারের পক্ষে জোরালো আহ্বান এবং একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। কেউ ইসলামের আলোকে শ্রমের মর্যাদার কথা তুলে ধরেছেন, কেউ মে দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের শ্রমিকদের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেছেন। আবার কেউ মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কের গুরুত্ব এবং আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেছেন। এই শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত মতামত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামকে যেমন স্মরণ করে, তেমনই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সহানুভূতিশীল কর্মপরিবেশ তৈরির প্রত্যাশা জাগায়।

 

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী, জোনায়েদ হোসেন রাতুল বলেন:

“শ্রমিকের ঘামে ইবাদতের গন্ধ” – জোনায়েদ হোসেন রাতুলের এই গভীর উক্তিটি শ্রমের মর্যাদা ও তাৎপর্যকে এক নতুন আধ্যাত্মিক উচ্চতায় নিয়ে যায়। ইসলামে শ্রমকে কেবল জীবিকা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি পবিত্র কর্ম ও ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুস্পষ্ট বাণী, “শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করো” (ইবনে মাজাহ), শ্রমিকের অধিকারের প্রতি ইসলামের গুরুত্বকে দ্ব্যর্থহীনভাবে তুলে ধরে। আজকের প্রেক্ষাপটে, যখন বহু শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত, কম মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও অবহেলা যাদের নিত্যসঙ্গী, তখন ইসলামের এই নীতিগুলি আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় এবং অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করে।

 

ইসলামের সুমহান দৃষ্টিতে, মালিক ও শ্রমিক কেবল দুটি ভিন্ন সত্তা নন, বরং তারা একে অপরের আমানতদার। মালিক যেমন তার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকদের শ্রম ও সততার প্রতি বিশ্বস্ত থাকবেন, তেমনই শ্রমিকদেরও তাদের কর্মের প্রতি আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। উভয় পক্ষের উচিত ন্যায়, ইনসাফ ও সদাচরণের নীতিতে অবিচল থাকা। হযরত দাউদ (আ.) এর নিজের হাতে কাজ করার দৃষ্টান্ত ইসলামে পরিশ্রমের অপরিসীম সম্মানকে সুস্পষ্ট করে তোলে। শ্রম শুধু আমাদের দৈনন্দিন জীবিকার উৎস নয়, এটি এক প্রকার আধ্যাত্মিক সাধনা ও ইবাদত। সুতরাং, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজে শ্রমিকদের সম্মান, তাদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রতিটি মুমিন মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। এই মহান মে দিবসে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার হোক—ইসলামের মহান আদর্শকে অনুসরণ করে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে কোনো শ্রমিক অবহেলিত হবে না, বরং প্রত্যেকে সম্মানিত, নিরাপদ ও ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে অধিষ্ঠিত হবে। ইসলামী ন্যায়বিচারই হোক শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথপ্রদর্শক।

 

ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী, মোছাম্মৎ মজিদা খাতুন বলেন:

মোছাম্মৎ মজিদা খাতুন মে দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, প্রতি বছর মে মাসের ১লা তারিখ বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের যুদ্ধের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য পালিত হয়। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের শুরুটা হয়েছিল ১৮৮৬ সালে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের সাহসী শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টার কাজের দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ ধারণ করলেও, এর পরের বছর আন্তর্জাতিক শ্রম সমিতিগুলোর ঐক্যবদ্ধ আহ্বান এই দাবিকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়, যা কালক্রমে আজকের এই “মে দিবস”-এর সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে।

 

মজিদা খাতুন শ্রমিক ও মালিকের পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা উপলব্ধি করেন। তিনি মনে করেন, এই সম্পর্ক কেবল আয়-ব্যয়ের গতানুগতিক হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পারস্পরিক গভীর বিশ্বাস ও অর্থবহ সংলাপের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। উন্নত মানের পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য মালিকদের অপরিহার্য সামাজিক দায়িত্ব হলো শ্রমিকদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ, পূর্ণ নিরাপত্তা এবং তাদের ন্যায্য ও উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি, শ্রমিকদেরও তাদের পেশাগত জীবনে সততা, সময়ের প্রতি আনুগত্য এবং নিজেদের দক্ষতা ক্রমাগত বৃদ্ধির দিকে মনোযোগী হওয়া অত্যাবশ্যক।

 

বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে মজিদা খাতুন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ২১ শতাংশ শিশু এখনও শ্রমের মতো কঠিন কাজে নিযুক্ত, যা তাদের মৌলিক শিক্ষা ও স্বাভাবিক সুস্থতার জন্য এক চরম হুমকি। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক শিশু শ্রমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮৪.৯ শতাংশ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত, যার ফলে তারা সামাজিক সুরক্ষা থেকেও সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত। এই মর্মান্তিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে আইনের যথাযথ প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও কঠোরতা আনা, শ্রমিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মালিকপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং দেশের সকল শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া অপরিহার্য।

 

শ্রমের প্রকৃত মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে মজিদা খাতুন প্রত্যেকটি পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত শ্রমিকদের মানবিক সম্মান জানানোর ওপর জোর দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আমাদের সমাজে শ্রমকে অবমূল্যায়ন করার যে নেতিবাচক প্রবণতা বিদ্যমান, তা যদি হ্রাস পায়, তাহলে সমগ্র অর্থনীতি একটি স্থিতিশীলতা লাভ করবে। বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর শ্রমিকরা প্রায়শই ন্যূনতম নিরাপত্তা ও মৌলিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকরা কোনো প্রকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আসেন না। মজিদা খাতুন মনে করেন, সকল স্তরের সরকারের উচিত বাধ্যতামূলক শ্রম আইন প্রণয়ন করা, শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা এবং তাদের স্বাস্থ্যবীমা ও অবসর ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করা।

 

সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মজিদা খাতুন বলেন, তাদেরও ‘শ্রমিকবান্ধব’ নীতিগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বাজার পর্যবেক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কেবল নতুন আইন প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়; বরং সেই আইনগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, শ্রমিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মালিকদের আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। একইসাথে সমাজের সকল স্তরে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র, মো: রায়হান বলেন: 

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো: রায়হান মে দিবসকে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ১৮৮৬ সালে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শিকাগোর শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন, যা পরবর্তীতে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। রায়হান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি মূলত শ্রমনির্ভর। পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে কোটি কোটি শ্রমিক তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

 

তবে, রায়হান গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন যে, আজও অনেক শ্রমিক তাদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং প্রাপ্য সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। নিয়োগপত্র না থাকা, শ্রমিকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে বিভিন্ন ধরনের বাধা এখনও বিদ্যমান। নারী শ্রমিকদের পরিস্থিতি আরও কঠিন, কারণ তারা প্রায়শই কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও নানা প্রকার বৈষম্যের শিকার হন।

 

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে শ্রমিকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে রায়হান মনে করেন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে অনেক শ্রমিক তাদের কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। একইসাথে, পরিবর্তিত বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন দক্ষতা অর্জনের জন্য শ্রমিকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও, বিদেশে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকরাও বিভিন্ন ধরনের শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

 

এই জটিল পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে রায়হান মনে করেন। প্রথমত, বিদ্যমান শ্রম আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সময়ের সাথে সাথে এর আধুনিকায়ন অপরিহার্য। শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং তাদের মাতৃত্বকালীন সুবিধার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করা এবং বিদেশে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। রায়হান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, মে দিবস কেবল অতীতের শ্রমিক আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করার দিন নয়, বরং শ্রমিকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন করে অঙ্গীকার গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

 

ইংরেজি বিভাগের ছাত্র, আবদুল্লাহ আল রাকিব বলেন:

ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহ আল রাকিব মে দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, শ্রমিক দিবসের সূচনা ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকদের বীরত্বপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দিন, ১ মে, পুলিশের নির্মম গুলিতে বহু শ্রমিক নিহত হন, যা পরবর্তীতে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি এনে দেয়। এরপর থেকে বিশ্বের অসংখ্য দেশে এই দিনটি শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

 

আবদুল্লাহ আল রাকিব মালিক ও শ্রমিকের মধ্যেকার সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, এই সম্পর্ক পারস্পরিক গভীর শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আন্তরিক সহযোগিতার দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। উভয় পক্ষের উন্নতি ও অভীষ্ট সফলতা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। মালিক যেমন একটি উৎপাদনশীল পরিবেশ তৈরি করার সুযোগ ও প্রয়োজনীয় পুঁজি বিনিয়োগ করেন, তেমনই শ্রমিকরা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে সেই উৎপাদনকে বাস্তবে রূপ দেন। এই পারস্পরিক সম্পর্ক যত বেশি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তত দ্রুত সাফল্যের শিখরে আরোহণ করবে।

 

বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বাস্তবতা তুলে ধরে রাকিব বলেন, আমাদের দেশে এখনও অনেক শ্রমিক ন্যায্য মজুরি, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। গার্মেন্টস শিল্প, নির্মাণ খাত ও পরিবহন শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, কিন্তু প্রায়শই তাদের ন্যায্য দাবি ও প্রয়োজনগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়। বিদ্যমান শ্রম আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং অনেক ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সীমিত কার্যকারিতা শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে।

 

এই পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক উন্নয়নের ওপর রাকিব জোর দেন। তিনি মনে করেন, এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং মালিকদের শ্রমিকদের প্রতি আরও বেশি মানবিক মনোভাব পোষণ করা। নিয়মিত শ্রমিক-মালিক সংলাপ, মতবিনিময় সভা এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার একটি কার্যকর প্রক্রিয়া গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, সরকার ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত তত্ত্বাবধানে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রমের আওতায় আনা উচিত, যাতে একটি সম্মানজনক, ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শিল্প সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

 

সর্বশেষ - শিক্ষা

আপনার জন্য নির্বাচিত

নড়াইল ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজন গ্রেফতার 

জুলাই বিপ্লবের গৌরবময় ইতিহাসের স্মারক বাকৃবির ডেস্ক ক্যালেন্ডার

কাঁচাবাজারের আড়ৎ দখলকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকদলের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষ

রাজশাহীতে তিনদিনব্যাপী লোকনাট্য উৎসব শুরু

টাংগাইলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান,৬০ হাজার টাকা জরিমানা

বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশ না নেওয়ায় খাবার বন্ধ করলেন ইবি প্রভোস্ট

গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় বিক্ষোভে উত্তাল

যারা রাজনীতিতে বিবাদ তৈরি করছে, তাদের এখনই আলোচনায় বসা উচিত: মান্না

মাধবপুরে আন্ত জেলা ডাকাতদলের ৯ সদস্য গ্রেপ্তারঃ সিএনজি-প্রাইভেটকার উদ্ধার