সোমবার, 19 মে 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

সীমাহীন অব্যবস্থাপনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

প্রতিবেদক
shafiel alam sumon
সোমবার, ১৯ মে ২০২৫ - ৪:৫৮ অপরাহ্ন

সীমাহীন অব্যবস্থাপনার নাম এখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তিন বারের দেশ সেরা এ হাসপাতাল টি এখন নিয়ম নীতিগুলো অনিয়মে পরিণত করে ময়মনসিংহবাসীর কাছে হাজার প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। তবে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীদের চাপে সকল নিয়ম অনিয়মের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা।

দালালদের দৌরাত্ব্য, রোগীদের আসন সংকট, ওষুধ সংকট, এক্সরে ফিল্ম সংকট, হোটেল গুলোতে ন্মিম মানের খাবার পরিবেশন আবার খাবারের মান নিয়ে কথা বললেই দালাল ঢেকে এনেই মারধর সহ হয়রানী করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন কি জায়গা স্বল্পতা থাকার কারণে মানসিক রোগী দের কে রাখা হচ্ছে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে।

১৯৬২ সালে ৮৩ একর জমির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল টির সৃষ্টির শুরু থেকেই ৩০০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল। তখন প্রতিনিয়তই ৮০০ হতে ১০০০ রোগী ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহন করতেন। বর্তমানে শয্যার তুলনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) তিনগুণের বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, হাসপাতালটির প্রতি আস্থা রাখায় দিন দিন এ হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ১ হাজার শয্যা বিশিষ্ট ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলা ছাড়াও গাজীপুর, সুনামগঞ্জ এবং রংপুরের রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন।

জানা গেছে, হাসপাতালটিতে গড়ে প্রতিদিন ৩০০০–৩২০০ রোগী ভর্তি হয়ে থাকেন। এতে শয্যা সংকটের কারণে মেঝে ও বারান্দায় শুয়ে সেবা নিতে হচ্ছে অনেককে। রোগীদের স্বজনরা জানান, কষ্টের পরেও হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পেয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট। স্বজনরা আরো জানান, হাসপতালে চিকিৎসা সেবা নিতে যারা আসেন তাদের অনেক কিছুই থাকে অচেনা, অজানা। এ সুযোগে দালালদের খপ্পরে পড়তে টেস্ট করানোর কথা বলে নিয়ে যায় বাহিরে, অনেকে ফ্রি করিয়ে বলে টাকা নেন।

হাসপাতালে দর্শনার্থীদের জন্য সময় লেখা থাকলেও প্রয়োগ নেই, ধূমপান মুক্ত স্থান গুলো হয়েছে ধূমপান যুক্ত, হোটেল গুলোতে গেলে মাঝে মাঝে ঝগড়া লেগে যায়। হোটেল ম্যাসিয়ার দের সঙ্গে রুক্ষ আচরণ করেন। এমন সময় আসে খাবার না খেলেও খাবারের বিল পরিশোধ করতে হয়।

গত সোমবার ১২ মে ৪র্থ শ্রেণীর ক্যান্টিনে এরকম ঘটনা ঘটলে সাপ্তাহিক চরকার দু জন সাংবাদিক গেলে ছবি নিলে ঐসময় ম্যানেজার এক দালাল ঢেকে এনে সঙ্গে থাকা আইডি কার্ড ও ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে। সাংবাদিকরা মৌখিক ভাবে ডিডির কাছে জানালে বিচারের আশ্বাস দিলে তারা ফিরে আসে। এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খাবারে মান নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের আত্বীয় স্বজনদের অভিযোগের শেষ নেই। খাবারের মান যাচাই করতে বা প্রশ্ন করলে হাসপাতালে থাকা দালালদের হাতে অপদস্ত হতে হয়ে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফিল্ম সংকটের কারণে এক্স–রে, সিটিস্ক্যান ও এমআরআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা–নিরীক্ষা করাতে পারছেন না রোগীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে গিয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, এক্স–রে করাতে প্রতিদিন ৭০০–৮০০ রোগী কাউন্টারের সামনে ভিড় করলেও ফিল্ম সরবরাহ আছে ২৫০টি। সিটিস্ক্যান ও এমআরআই করাতে দিনে প্রায় ৪০০ রোগী আসলেও ফিল্ম সরবরাহ আছে মাত্র ১০০টি।

ফলে বাকি রোগীদের পরীক্ষা না করেই বাড়ি ফিরে যেতে হয়। গত এক বছর ধরে ফিল্ম সংকট চলছে। এতে সবার ভোগান্তি পোহাতে হয়।হাসপাতাল সূত্র জানায়, রেডিওলজি বিভাগে এক্স–রে করাতে ২০০ টাকা লাগে। একই এক্স–রে বাইরের বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে গিয়ে করাতে লাগে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। এখানে সিটিস্ক্যান করাতে দুই থেকে সর্বোচ্চ চার হাজার টাকা লাগে। একই সিটিস্ক্যান বাইরে থেকে করাতে লাগে সাত থেকে ১২ হাজার টাকা। এমআরআই পরীক্ষা করাতে তিন থেকে চার হাজার টাকা লাগে। আর বাইরে থেকে করাতে লাগে সাত থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাইরে আরও বেশিও দেওয়া লাগে।

হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, এক হাজার শয্যার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে ৪০–৫০ হাজার ক্যানুলা প্রয়োজন হয়; কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ২৫–৩০ হাজার। মাসে ১৪–১৫ হাজার স্যালাইন সেটের দরকার হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে ৮–১০ হাজার। হাসপাতালের ওয়ার্ড ও ল্যাব মিলে ১০, ৫ ও ৩ সিসি সিরিঞ্জ প্রতি মাসে দরকার প্রায় আড়াই লাখ। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজারের মতো। ওই অবস্থায় ল্যাবগুলোতে সিরিঞ্জ সরবরাহ ঠিক থাকলেও ওয়ার্ডের রোগীদের কিনতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করত দলীয় সিন্ডিকেট। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী ঘরানার ঠিকাদারেরা আত্মগোপনে চলে যান। এখন তাঁরা ঠিকমতো চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করছেন না। এ অবস্থায় মাসখানেক ধরে স্যালাইন সেট, ক্যানুলা, সিরিঞ্জ, হ্যান্ডগ্লাভস সহ নানা ধরনের চিকিৎসাসামগ্রী প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়ার্ডগুলোতে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী কিনে আনতে বলায় রোগীর স্বজনদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে নার্স ও চিকিৎসকদের। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা শনিবার হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে বৈঠক করেন।

এতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস, উপপরিচালক মো. জাকিউল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) শেখ আলী রেজা সিদ্দিকী, সিনিয়র স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার উপস্থিত ছিলেন। অন্য চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন মো. শাদাব ইবনে শরাফত, বেনজীর আহমেদ, ইফতেখার হায়দার, আরিফ মাহবুব, খায়রুল জুয়েল, মো. আনিসুর রহমান, মহিউদ্দিন মাহি, জাহিদ সোহান, সোহেল রানা হিমেল, তুবাউল লিমাত প্রমুখ।

এ সময় চিকিৎসকেরা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও সরঞ্জাম নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের জন্য হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। এ ছাড়া তাঁরা হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রোধ করার দাবিসহ বিভিন্ন দাবি জানান। মানসিক রোগী প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ জন রোগী ভর্তি হতে আসে। সর্বোচ্চ মানসিক রোগী ভর্তি হয়ে ছিল ২৫ জন । বর্তমানে এ বিভাগে রোগী আছে ১৩ জন। এসব রোগীদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে রাখায় নানা সমস্যায় পড়তে হয় । এছাড়া রোগীরেদ বেড না থাকা, বাথরুমের নোংড়া পরিবশে ডাক্তার নার্সদের ও নেই যথেষ্ট স্থান।

নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহযোগী অধ্যাপক ডা: মো: এনামুল হক খান বলেন, রোগীর চাপ বেশি থাকার কারণে ডাক্তার নার্সদের হিমসিম খেতে হয়। মনোরোগ বিভাগের করুণ অবস্থা রোগীদের জন্য আলাদা কোন ওয়ার্ড না থাকায় বিভিন্ন সম্যায় পড়তে হয়। এ বিভাগের জন্য আলাদা একটি ওয়ার্ড এর জন্য একাধিবার বলেও কোন ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহকারী ঠিকাদারেরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া। তাঁরা গা ঢাকা দেওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী জিনিসপত্র সরবরাহ করছিলেন না। বারবার চিঠি দেওয়া হলেও তাঁরা প্রয়োজনের তুলনায় কম জিনিস সরবরাহ করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে আমরা চালিয়ে নিলেও মাসখানেক কিছুটা এমন পরিস্থিতি হয়। সেটা ওভারকাম করে ফেলেছি। নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। এ ছাড়া চিকিৎসকেরা যেসব বিষয় উত্থাপন করেছেন, সেগুলো নিরসনে কাজ চলছে।’ এছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে দালালদের আচরণ বিষয়ে তিনি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।

সর্বশেষ - শিক্ষা

আপনার জন্য নির্বাচিত