বুধবার, 8 জানুয়ারি 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

জন্মের ৩৫ বছররেও ভাত খায়নি সিরাজগঞ্জের যুবক শরীফ আহমেদ

প্রতিবেদক
মোঃ মামুন সেখ জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ৷
বুধবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৫ - ১২:৫৯ অপরাহ্ন

‘মাছে ভাতে বাঙালি’ এই কথা কে ভূল প্রমাণ করেছেন সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার যুবক শরিফ আহমেদ ৷ কারণ তার জন্মের পর থেকে দীর্ঘ ৩৫ বছরে কোনদিনও সে ভাত খায়নি৷ তার জীবন কেটেছে শুধু মাত্র আটার রুটি খেয়ে৷ এই খাদ্য অভ্যাসের কারণে এলাকায় তাকে শরিফ আহমেদ নামে না চিনলেও ‘রুটি শরিফ’  নামে সবাই চেনে৷ 

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার  রুপবাটি ইউনিয়নের মৃত রজব আলীর ছেলে শরীফ আহমেদ তিনি পেশায় একজন ভ্যান চালক৷ সে কখনো ভাত খায় না তার জন্য তার  দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় রয়েছেন আটার রুটি, সবজি, ডিম অথবা মাংস৷ 

সরেজমিনে গিয়ে শরীফ আহমেদের  মা সাবেয়া বেগমের সাথে কথা বললে তিনি আমাদের এ কথা নিশ্চিত করেন যে, শরীফ কে ছয় মাস বয়স থেকে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করলে বমি করে দিত৷ এরপর থেকে তাকে অনেক ভাবে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করলে আমরা তাতে ব্যর্থ হই৷ চাল জাতীয় কোন খাবারই তার পছন্দ ছিল না৷ কিন্তু আটার রুটি সহজে তার পছন্দের তালিকায় যুক্ত হয়ে যায়৷ তারপর থেকেই শরীফের শুরু হয়ে যায় আটার রুটি খাওয়া৷ এমন কি কোন আত্মীয় বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেলেও আমাকে আটার রুটির ব্যবস্থা করে নিয়ে যেতে হয়৷  

শরিফের বড় ভাই আরিফ মোল্লা বলেন, অনেকভাবে তাকে আমরা ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করি কিন্তু কোন ভাবে তাকে ভাত খাওয়ানো সম্ভব হয়নি৷ কিন্তু একবার চিংড়ি মাছের সাথে ভাত মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে সে ভাত না খেয়ে শুধু চিংড়ি মাছগুলোই খেয়েছিল৷ এমনকি সে ১০ বছর ধরে বিয়ে করেছে সেখানেও শর্ত যে সে শুধু মাত্র আটার রুটি খাবে কখনো ভাত খাবে না৷ 

শরীফের স্ত্রী আমেনা খাতুন বলেন, আমাকে বিয়ের আগে শর্ত দেয়া হয়েছিল যে আমাকে তাকে সারা জীবন আটার রুটি বানিয়ে দিতে হবে৷  প্রথমদিকে তার এই খাদ্য তালিকা দেখে অবাক হলেও এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি৷ চাল জাতীয় কোন খাবার না খেলেও আটার রুটির সাথে শাকসবজি, ডিম, মাছ-মাংস সবই খান৷

এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে জানান, এমন আশ্চর্যজনক মানুষ আমরা আগে কখনো দেখিনি৷ তাকে আমরা আজ পর্যন্ত কখনো চাল জাতীয় খাবার বা ভাত খেতে দেখিনি৷ কিন্তু সে রুটি খেয়েই অন্য অন্য মানুষের মতোই স্বাভাবিক ভাবেই জীবন যাপন করছেন৷ 

শরীফ আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আশে পাশের অনেক মানুষই আমাকে দেখার জন্য আসে৷ প্রথম অবস্থায় কিছুটা বিব্রতবোধ লাগলেও এখন আর আগের মত লাগে না বরং আমাকে মানুষ দেখতে আসে এটাতে আমার ভালোই লাগে৷ এমনকি আমি আমার বাকি জীবনটাও এভাবে আটার রুটি খেয়ে কাটিয়ে দিতে চায়৷

সর্বশেষ - বিশেষ সংবাদ