বুধবার, 21 মে 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

ডিআইইউ শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু ; দুর্ঘটনা,খুন, নাকি অন্যকিছু?

প্রতিবেদক
Delowar Mahmud
বুধবার, ২১ মে ২০২৫ - ৪:০৫ অপরাহ্ন

দেলোয়ার মাহমুদ, ডিআইইউ প্রতিনিধি : 

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ)  ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রোনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং  বিভাগের ৫৩ ব্যাচের (২য় শিফটের) মেধাবী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান (২৭) মৃত্যুর গঠনা ঘটেছে। প্রশ্ন উঠেছে এটা কি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্নহত্যা, দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড?

 

সোমবার (১৯ মে) আনুমানিক রাত ১২ টা থেকে ২ টার মধ্যে  দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ১২৫ নাম্বার পিলারের কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় মাহমুদুল হাসানের লাশ পরে থাকতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিয়াবাড়ি থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী সকালে কুর্মিটোলা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরে, ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পল্লবী থানায় লাশ হস্তান্তর করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।     

 

মাহমুদুল হাসান যে হোস্টেলে থাকতেন সেই হোস্টেলের কেয়ার টেকার লিটন জানান,  ১৬ মে সকাল আনুমানিক ১১ টার দিকে মাহমুদুল হোস্টেল থেকে বাহিরে বেড়িয়ে যান, তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি কোথায় যাচ্ছেন।  মাহমুদুল হাসান বলেন তার ফোন হারিয়ে গিয়েছে সেই ফোন খোঁজার জন্য বাইরে যাচ্ছি। তারপর সে আর হোস্টেলে ফিরে আসেনি।  তিনদিন পর জানতে পারলাম সে মারা গিয়েছে বললেন কেয়ার টেকার লিটন। এ মৃত্যুটি স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না বলেও জানান তিনি।   

 

এদিকে হোস্টেলের সিভিল বিভাগের শিক্ষার্থী  মোহাম্মদ  সিয়াম বলেন, এই মৃত্যু কখনো স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। ফোন হারিয়ে যাবার পরের তিন দিন পর্যন্ত সে কোথায় ছিল?  

 

মাহমুদুল হাসানের রুমমেট সাদিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে আমি রুমে আসি। আসার পর দেখি মাহমুদুল ভাই নিজের সাথে নিজে একা একা  কথা বলছে। আমার কাছে বিষয়টা অস্বাভাবিক,  সন্দেহজনক এবং কোন সমস্যা আছে মনে হয়। আমি প্রশ্ন করতেই তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ঘুমানোর আগে তিনি ফোনে কার সাথে যেন কথা বললেন। ঘুম থেকে উঠার পর বলেন আমার ফোন হারিয়ে গিয়েছে আমি এটা খুঁজতে বাহিরে যাচ্ছি । এই বলে তিনি চলে গেলেন । এই মৃত্যুটা আমার কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে।   

 

এদিকে তার মৃত্যুর ঘটনায়  সঠিক তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল  ইসলাম চাঁদ বলেন,  ফোন খোঁজতে গিয়ে নিখোঁজ  হওয়া এবং তার মৃত্যু, বিষয়টি কখনো স্বাভাবিক হতে পারে না।  নিখোঁজ হওয়ার পরের তিনদিন সে কোথায় ছিল সেই প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে।  আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন করা হোক। 

 

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং  বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল বাসেত বলেন,  আমি সকাল দশটার দিকে দুর্ঘটনার কথা জানতে পারি। পরে সহকারী অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম এবং বিভাগের কো-অর্ডিনেটর আবিদ হাসানকে সেখানে যেতে বলি এবং তারা আমাকে মৃত্যুর খবরটি দুপুর ১২ টায় নিশ্চিত করেন। আমাদের (ইইই) বিভাগ, ভিসি এবং বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করব।   

 

সহকারী প্রক্টর, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম মামুন বলেন, ঘটনাটা জানতে পারি সকাল দশটার দিকে প্রক্টর  স্যারকে বিষয়টি অবহিত করি। প্রক্টর স্যার আমাকে থানায় যেতে বলেন।  থানার এএসআই মনির ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা বলে  নিশ্চিত করেন।  তিনি আরো বলেন, ঘটনাটির সঠিক ব্যাখ্যা জানতে হলে ময়না তদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।  প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবারকে বিশ হাজার  টাকা সহয়তা করা হয়েছে। পরবর্তীতে কি হবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত  নিবেন। 

 

এদিকে নিহত মাহমুদুল হাসানের পিতা ইদ্রিস আলী মাস্টার বলেন, আমার ছেলে মাহমুদুল  ঢাকাতে মারা গিয়েছে, দুর্ঘটনা নাকি খুন হয়েছে আমরা বলতে পারবোনা। আমরা ঢাকায় যেতে পারি নি। আমার চাচাতো ভাই রবিউল মাহমুদুলের লাশ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসেছে। রাতেই আমরা মাহমুদুলের লাশ দাফন করেছি। যেহেতু আমার ছেলে দুনিয়াতে নেই, তাই আমরা আর বিচার চাচ্ছি না।

 

পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম  বলেন,  কুর্মিটোলা হাসপাতালে একটা লাশ এসেছে এমন  সংবাদ পেয়ে দ্রুত একটা পুলিশের দল সেখানে যায়। গিয়ে দেখতে পায় কিছু মানুষ তাকে রেখে চলে গিয়াছে। ডাক্তার আমাদের প্রাথমিক ভাবে এটি দুর্ঘটনা বলে জানান । পরবর্তীতে আমরা লাশের পরিচয় পাই। ময়না তদন্ত শেষে লাশ তার আত্নীয় রবিউলের কাছে বুঝিয়ে  দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান এখন পর্যন্ত  তার পরিবার থেকে কোন মামলা দায়ের করেনি। 

সর্বশেষ - শিক্ষা