সোমবার, 24 মার্চ 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

অর্কিড কাঞ্চনে সজ্জিত রাবি: রূপ, রং ও গুণের এক বিরল সংমিশ্রণ

মো. রাফাসান আলম, রাবি প্রতিনিধি:
মো. রাফাসান আলম, রাবি প্রতিনিধি:
সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫ - ৬:০১ অপরাহ্ন

ধূসর পাতার মাঝে যেন এক অপরূপ রংয়ের খেলা, বেগুনি-গোলাপি কাঞ্চন ফুল উঁকি দিচ্ছে মায়াবীভাবে। শুধু একটি-দুটি নয়, শত শত গাছের দোলনায় ফুটে থাকা এই কাঞ্চন ফুলের দৃশ্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্যাম্পাসে যেন এক রঙিন স্বপ্নের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে—রাস্তাঘাট, হলের পুকুরপাড়, শহীদ মিনার, একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনের পাশে কাঞ্চন গাছের উপস্থিতি প্রকৃতিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। তবে এই সৌন্দর্যই শুধু নয়, কাঞ্চনের বিভিন্ন অংশের ঔষধি গুণও রয়েছে। হাঁপানি, ক্ষত ও পেটের অসুখে এর কার্যকারিতা অনেকটাই প্রশংসিত, যা গাছটিকে শুধু প্রকৃতির নয়, চিকিৎসারও এক অমূল্য রত্নে পরিণত করেছে।
রক্ত কাঞ্চন, দেব কাঞ্চন ও শ্বেত কাঞ্চনের মতো জনপ্রিয় প্রজাতির পাশাপাশি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পাঁচ বছর আগে শুরু হয় বিরল প্রজাতির অর্কিড কাঞ্চন গাছ লাগানোর একটি বিশেষ উদ্যোগ। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন কৃষি অনুষদের এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি প্রথমে একটি কাঞ্চন গাছ থেকে চারা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং পরে তাঁর একক প্রচেষ্টায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের মাধ্যমে, তা ব্যাপকভাবে ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হন। 
অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একটি কাঞ্চন গাছ আমাদের পিয়ন শহর থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। সেখানে দুটি গাছ জন্ম নেয় এবং পরপর তিন বছর ফুল দেয়। এ গাছের ফুল এতই সুন্দর যে যে-ই দেখত, তাকিয়ে থাকত। এ কাঞ্চনের নাম অর্কিড কাঞ্চন। এটি লিগুমিনোসি (Leguminosae) পরিবারের উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম বাউহিনিয়া ব্ল্যাকিয়ানা (Bauhinia blakeana)। এ গাছের উৎপত্তি চীনে। সাধারণত বসন্তকালে ফুল দেয় এবং ফুলগুলো মাসব্যাপী থাকে। ফুল আসার আগে এর পাতাগুলো বেশির ভাগ সময় ঝরে যায়।’ 
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম নজরে আসার পর প্রশাসন ফুলটির সৌন্দর্য লক্ষ করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের অধীনে আমি ব্যক্তিগতভাবে বীজ সংগ্রহ করি এবং ফিশারিজ ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর দেলওয়ার হোসেন স্যারের সহযোগিতায় পাঁচ শতাধিক চারা তৈরি করি। এ ফুলের সৌন্দর্য অন্যান্য ফুলের তুলনায় অনেক আকর্ষণীয় এর গাছে প্রচুর ফুল আসে এবং রয়েছে ঔষধি গুণও।’
অর্কিড কাঞ্চন বাংলাদেশে অভিযোজিত একটি নতুন উদ্ভিদ। গাছটির উচ্চতা প্রায় ৮ মিটার পর্যন্ত হয়। এর ফুলের প্রস্ফুটনকাল নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত। বিরল প্রজাতির রক্তকাঞ্চন ফুলপ্রেমী সবার কাছে একটি পরিচিত নাম। দেবকাঞ্চন, শ্বেতকাঞ্চন ও রক্তকাঞ্চন—এ ফুলের উল্লেখযোগ্য প্রজাতিগুলো। তবে কাঞ্চনের মধ্যে রক্ত কাঞ্চনই শীর্ষে স্থান পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তো বটেই, এ কাঞ্চনের সৌন্দর্যে বিমোহিত হচ্ছেন দর্শনার্থীরাও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী অপু জোয়ার্দার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে প্রায় প্রতিটি ঋতুতে কোনো না কোনো ফুল আমাদের মুগ্ধ করে। গ্রীষ্মের দিনগুলোতে রক্ত কাঞ্চন ফুলের উজ্জ্বল রঙ এবং পাঁপড়ির কোমলতা অবর্ণনীয় সুন্দর অনুভূতি তৈরি করছে। ক্যাম্পাসে এসে রক্ত কাঞ্চনের এই অপূর্ব আভায় আমি যেন এক অদ্ভুত মুগ্ধতায় ভরে উঠি।’
ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, ‘রোকেয়া হলের পাশের কাঞ্চন বাগানটি এক কথায় অপরূপ। এই বাগানটি দেখলে মনে হয় যেন প্রকৃতি তার সেরা রূপে সাজিয়ে রেখেছে। রঙের মায়াবী সমাহার আর পুষ্পরাজির অপূর্ব সৌন্দর্য এমন এক ভালোলাগা সৃষ্টি করে, যা হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে-কানাচে সড়কের ধারে সারি সারি অর্কিড কাঞ্চনের চারা গাছ লাগানো হচ্ছে। এপ্রিল থেকে মালিরা বীজ সংগ্রহ করেন এবং এক মাসের মধ্যেই সেগুলো বপন ও পরিচর্যা শুরু করেন। বর্ষাকালে গাছগুলো নির্দিষ্ট স্থানে রোপণ করলে দুই বছরের মধ্যে ফুল ফুটতে শুরু করে। তবে রঙ, শোভা ও সৌন্দর্যের কারণে রক্ত কাঞ্চনই সৌন্দর্যপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়।
বাগানের মালি আলতাফ হোসেন জানান, ‘মার্চের মাঝামাঝি বা শেষে কাঞ্চনের বীজ সংগ্রহ করে তা শুকিয়ে পলিথিন ব্যাগে রোপণ করা হয়। পরে এপ্রিল-মে মাসের দিকে চারা উঠিয়ে প্রস্তুত করা হয়। ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক গাছ লাগানো হয়েছে।’
এ গাছ লাগানোর সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা। তার মতে, সারা দেশে অর্কিড কাঞ্চনের এত বড় সংগ্রহ আর কোথাও নেই। সাবেক এ উপ-উপাচার্য বলেন, ‘এগ্রিকালচার বিল্ডিংয়ের সামনে একসময় রক্ত কাঞ্চনের একটি গাছ ছিল, যেটিতে মার্চের শুরুর দিকে এত ফুল ফুটত যে সেখানে কোনো পাতা থাকত না। তখনই মাথায় আসে ক্যাম্পাসজুড়ে গাছটি ছড়িয়ে দেয়ার ভাবনা। তখন অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিনের সহায়তায় রোকেয়া হলের সামনের পুকুরপাড়সহ প্রশাসন ভবনের সামনে ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গাছটি রোপণ করা হয়, যা অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের অর্কিড কাঞ্চনের সৌন্দর্য এবং ঔষধি গুণ প্রকৃতিকে এক নতুন রূপে সাজিয়ে তুলেছে। এই ফুলের সৌন্দর্য শুধু ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট স্থানকে নয়, পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছে।

সর্বশেষ - বিশেষ সংবাদ

আপনার জন্য নির্বাচিত

জবির এআইএস বিজনেস ক্লাবের নেতৃত্বে আদিব-টুটুল

ইসরায়েলকে ফিলিস্তিন ছাড়ার আল্টিমেটাম দিল ইরান

ভোলা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির সভাপতি সিফাত ও সাধারণ সম্পাদক শামীম

হোসেনপুরে আমেরিকা প্রবাসির বাড়িতে ডাকাতি

ঘোড়ার প্রাণঘাতী গ্ল্যান্ডার্স রোগ বিষয়ে বাকৃবিতে সেমিনার

ফুলবাড়ীতে তীব্র শীতেও সমলয়ে বোরো চাষের নতুন দিগন্ত কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী

যশোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াতের মতবিনিময়, পাশে থাকার অঙ্গিকার

চিরিরবন্দরে মিথ্যা মামলার হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বশেফমুবিপ্রবির বাসের স্টাফকে মারধর, সড়ক অবরোধ ও আটক- ৩ জন

৩ আগস্ট: দেশের প্রথম দখলদার স্বাধীন ক্যাম্পাস হিসেবে ইতিহাস গড়ে মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা