রবিবার, 1 জুন 2025 | [bangla_date]
  1. বিশেষ সংবাদ
  2. বাংলাদেশ
  3. রাজধানী
  4. শিক্ষা
  5. রাজনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. বাণিজ্য
  8. বিনোদন
  9. খেলাধুলা
  10. প্রযুক্তি
  11. জীবনযাপন
  12. আইন অঙ্গন
  13. ভিডিও
  14. মতামত
  15. সম্পাদকীয়

ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ

মোঃ নাসরুল্লাহ সাকিব, রামপুরা (ঢাকা) প্রতিনিধি
মোঃ নাসরুল্লাহ সাকিব, রামপুরা (ঢাকা) প্রতিনিধি
রবিবার, ১ জুন ২০২৫ - ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। হজে কিছু নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মানার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়। তবে এই পবিত্র সফরে ভুল-ত্রুটি না হলে ভালো, বিশেষ করে যখন কেউ ইহরাম অবস্থায় থাকে। কেননা ইহরাম অবস্থায় এমন কিছু কাজ রয়েছে, যেগুলো করা সম্পূর্ণরূপে হারাম বা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এসব কাজের কারণে হজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে, এমনকি নির্দিষ্ট কিছু গোনাহের কারণে ‘দম’ বা কুরবানি ওয়াজিব হয়। তাই একজন হজযাত্রীর দায়িত্ব হলো, ইহরামের বিধিনিষেধ সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখা এবং তা যথাযথভাবে মেনে চলা। (সূরা আল-বাকারা: ১৯৭)

ইহরাম অবস্থায় পুরুষদের জন্য শরীরের আকার অনুযায়ী সেলাইকৃত কাপড় পরিধান করা নিষিদ্ধ। যেমন—পাঞ্জাবি, জুব্বা, শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি, কোট, সোয়েটার বা জাঙ্গিয়া। এই সময় সেলাইবিহীন চাদর বা তোয়ালে জাতীয় কাপড় পরিধান করাই সুন্নত। অবশ্য ইহরামের কাপড় ছিঁড়ে গেলে তা জোড়া দেওয়া বা সেলাই করেও পরা যায়, তবে তা সেলাইবিহীন থাকাই উত্তম। ফিকহি কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার’ এবং ‘শরহু লুবাবিল মানাসিক’-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। (রদ্দুল মুহতার ২/৪৮১, শরহু লুবাবিল মানাসিক ৯৮)

মাথা ও মুখ ঢেকে রাখা পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে নারীদের জন্য নিষিদ্ধ হলো—চেহারায় কাপড় লাগানো। অর্থাৎ, পরপুরুষের সামনে পর্দা করতে হবে, তবে এমনভাবে যে কাপড় যেন চেহারার সঙ্গে সরাসরি না লাগে। নারীরা সাধারণভাবে মাথা, কান, গলা, গাল ঢেকে রাখতে পারবে; কিন্তু চেহারায় কাপড় লাগানো নিষিদ্ধ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২৪৭)

পায়ের ওপরের হাড় যেটা “তুলু’লে কদম” নামে পরিচিত, সেটি ঢেকে যায়—এমন জুতা বা স্যান্ডেল পরা পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ। তাই এমন স্যান্ডেল পরতে হবে যা পায়ের ওপর খোলা রাখে। অনেক সময় অনেকে সাধারণ স্যান্ডেল পরেন যাতে সামনের অংশ ঢাকা থাকে, এমনটি ইহরামের শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। (রদ্দুল মুহতার ২/৪৯০)

ইহরামের কাপড়ে বা শরীরে কোনো ধরনের আতর, সুগন্ধি তেল, সুগন্ধিযুক্ত সাবান, পাউডার, ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এমনকি সুগন্ধিযুক্ত তিলের তেল বা অলিভ অয়েলও ব্যবহার করা যাবে না। পৃথকভাবে আতর লাগানো বা সুগন্ধিযুক্ত পান, জর্দা, সুপারিও খাওয়া হারাম। ফলের গন্ধ বা ফুলের ঘ্রাণ নেওয়া ইচ্ছাকৃতভাবে করাও মাকরূহ। (আহকামে হজ্ব ৩৪, মানাসিক ১২১)

ইহরাম অবস্থায় নিজের শরীরের কোনো অংশের চুল, দাড়ি, নখ বা পশম কাটা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। অনেক সময় তৃষ্ণা বা অস্বস্তির কারণে মাথা চুলকাতে গিয়ে চুল উঠে যেতে পারে, তাও সতর্কভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। নখ কাটা কিংবা নাক-কান পরিস্কার করাও এ সময় নিষিদ্ধ কাজের অন্তর্ভুক্ত। (আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৮৬-৪৯০)

স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা ইহরাম অবস্থায় সবচেয়ে কঠিন নিষিদ্ধ কাজগুলোর একটি। শুধু সহবাস করাই নয়, বরং যৌন কথাবার্তা, উসকানিমূলক আচরণ বা চুমু ইত্যাদিও সম্পূর্ণ হারাম। যদি কেউ আরাফায় যাওয়ার আগে স্ত্রী সহবাস করে ফেলে, তাহলে তার হজই বাতিল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে একটি উট বা গরু কুরবানি দিয়ে পরবর্তী বছর হজ কাযা করতে হয়। ফিকহি কিতাবে একে বড় অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৫৮-৫৫৯)

ইহরাম অবস্থায় কেউ কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করতে পারবে না। এমনকি শিকারের জন্য কাউকে সাহায্য করাও নিষিদ্ধ। শিকার করা কিংবা সহযোগিতা করাও হজের বিধান ভঙ্গ করে এবং এর জন্য কাফফারা ওয়াজিব হয়। হজ ইসলামের শান্তির আহ্বান, তাই এমন কোন কাজ করা যাবে না যা কোনো প্রাণীর জীবননাশ ঘটায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭২৯)

ঝগড়া, গালি-গালাজ, উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্ক বা মনের ক্ষোভ প্রকাশ হজের মুল্যবোধের পরিপন্থী। ইহরাম অবস্থায় এগুলো আরও বড় গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারিমে বলেন, “হজের সময় কেউ যেন অশ্লীলতা, গুনাহ বা ঝগড়ায় লিপ্ত না হয়।” (সূরা আল-বাকারা: ১৯৭)

এমনকি শরীরের বা কাপড়ের কোনো উকুন মারা পর্যন্ত নিষিদ্ধ। কেউ যদি উকুন খুঁটে ফেলে বা মেরে ফেলে, তবে সেটিও ইহরামের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন। যেহেতু ইহরাম অবস্থায় সব ধরনের হিংসা বা প্রাণনাশ নিষিদ্ধ, তাই ছোট প্রাণী হলেও তার ওপর জুলুম করা হারাম। (আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৮৬-৪৯০)

এছাড়াও কিছু অতিরিক্ত মাসআলা রয়েছে যা জানা দরকার। যেমন, ইহরাম অবস্থায় পান খাওয়া নিষিদ্ধ নয়, তবে যদি পান মসলা বা জর্দা সুগন্ধিযুক্ত হয়, তাহলে তা নিষিদ্ধ। পানিতে ডুব দেওয়া যাবে, তবে মাথা ও মুখ সম্পূর্ণভাবে ঢেকে ফেলা যাবে না। মাথা ও মুখ ব্যতীত বাকি শরীর কাপড়ে আবৃত রাখা বৈধ, যেমন: গলা, ঘাড়, পা ইত্যাদি ঢেকে রাখা যাবে। মাথা বালিশে রেখে ঘুমানো যাবে, কিন্তু মুখ পুরোপুরি বালিশে ঠেকিয়ে শোয়া যাবে না। (গুনয়াতুননাসেক ৯১, মানাসিক ১২৩-১২৪)

এই সব মাসআলা ও নিষেধাজ্ঞাগুলো শুধুমাত্র ফিকহি ব্যাখ্যা নয়, বরং এগুলো মুসলমানের অন্তরের ভক্তি ও আত্মশুদ্ধির অংশ। হজে গমনকারী মুসলিমদের উচিত—এসব বিষয় পূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে জানা ও মানা, যেন হজ কবুল হয় এবং আখিরাতে পরিপূর্ণ প্রতিদান পাওয়া যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২৪৭)

সর্বশেষ - শিক্ষা

আপনার জন্য নির্বাচিত

আজমিরীগঞ্জে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত

বাকৃবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মুহূর্তের মায়াজাল’

বৈচিত্র্যের ঝুড়িতে শিক্ষা আর পুষ্টি: সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে মৌসুমি ফল উৎসব

শেকৃবি গ্র্যাজুয়েটদের বাদ রেখেই বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির কমিটি গঠন

জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত, সর্বোচ্চ ৮৬.৫ মার্ক

যশোর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতব্যাপী সংঘর্ষের কারণ কী? ব্যখ্যা সংবাদ সম্মেলনে

সিদ্ধিরগঞ্জে দাম্পত্য কলহের গভীর রাতে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী।

এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী দিলো তুরস্কের সংগঠন এয়াতিম ভাকফি

বুলেটিন বার্তায় প্রকাশিত তানভীর শাকিলের কবিতা স্বপ্নের উড়ান

পোষ্য কোটা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে রাবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা